সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। তৃতীয় স্থান ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে নজরকাড়া প্লেয়ারদের মধ্যে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। এবার মাঠের বাইরের এক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এক জার্মান মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর ২০ মাসের কন্যাসন্তানের বাবা ওলিসে। শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। ঘটনাটা কী? কেন বিপাকে ওলিসে?
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী ফাতিমা জোনব্রিশার জানান, তাঁর সঙ্গে ওলিসের পরিচয় অনেকদিন আগে। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতেন তিনি। তখনই ফাতিমার সঙ্গে ওলিসের পরিচয় হয়। এর পরে দু’বছর সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। বিচ্ছেদের প্রায় দু’সপ্তাহ পর ফাতিমা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
ফাতিমার দাবি, মিউনিখে করা ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, তাঁর মেয়ে আলিয়া নূরের বাবা মাইকেল ওলিসেই। এরপর থেকেই তিনি অভিযোগ করছেন, ওলিসে কখনোই তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি। কোনোরকম আর্থিক সাহায্যও করেননি।
ফাতিমার অভিযোগ, প্রথমে ওলিসের আইনজীবীরা মাসে ৮৩৬ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯১ হাজার টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২০০০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) করা হয়। কিন্তু গত দু’বছরে তিনি কোনো টাকাই পাননি বলে দাবি করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার সন্তানের প্রতি ওঁর এই নিষ্ঠুর আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। ওলিসে সরাসরি কথা বলেন না। সব যোগাযোগই আইনজীবীদের মাধ্যমে করে থাকে।’
ফাতিমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইকেল ওলিসের আইনি টিম। তাঁদের দাবি, শুরু থেকেই সন্তানের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওলিসে এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি ওলিসের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, ফাতিমা মাসে ৬০ হাজার ইউরো (প্রায় ৬৬ লাখ টাকা) ভরণপোষণ দাবি করেছেন।
ওলিসের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আইনি বিতর্ক সামনে এলে। ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক অ্যাসিস্টও তাঁর নামে। কিন্তু ফ্রান্স ছিটকে যাওয়ার পরে এই বিতর্কে বিপাকে ওলিসে।




